রাজউকের আবাসিক এলাকায় এক লাখ লোকের আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি: ঢাকার পূর্বাচল, উত্তরা ও ঝিলিমিলি আবাসিক প্রকল্পে প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট তৈরি করে এক লাখ লোকের আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা হবে। এরমধ্যে পূর্বাচলে ৬২ হাজার, উত্তরায় ২০ হাজার এবং ঝিলিমিলি প্রকল্পে ৩০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

আজ গণপূর্ত অধিদপ্তর মিলনায়তনে এ অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তথ্য জানান।

পূর্তমন্ত্রী বলেন, প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে অল্প সংখ্যক লোকের আবাসন সুবিধা দেয়া যায়। কিন্তু ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হলে অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক লোকের আবাসন সুবিধা গড়ে ওঠে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ সরকারের চলতি মেয়াদে শেষ করতে হবে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ন্যাম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন এ প্রকল্প শেষ করার বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তর সফলভাবে তা শেষ করেছে। প্রকৌশলীদের জন্য এটি বড় সাফল্যের বিষয়। বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রকৌশলীদের এমন অনেক সফলতার দৃষ্টান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিটেইল এড়িয়া প্ল্যান-ড্যাপ-এর নামে অনেক উন্নয়ন কাজ থেমে রয়েছে। যেসব এলাকা নিয়ে ড্যাপে কোন আপত্তি নেই সেসব এলাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার কোন কারণ থাকতে পারে না। পরপর দুই মেয়াদে একই সরকারের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা বাংলাদেশে এবারই প্রথম ঘটলো। সুতরাং সরকারের বিগত মেয়াদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে জনগণকে এর সুফল দেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসকিতা নিয়ে সকলকে কাজ করতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন ও প্রধান স্থপতি আহসানুল হক খান।

পরে মন্ত্রী নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে এ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। অনুষ্ঠানে ‘গাইডলাইনস ফর মেইনস্ট্রিমিং ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইনটু ল্যান্ড ইউজ প্ল্রানিং ফর উপজেলাস অ্যান্ড মিউনিসিপালিটিস’ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময়ে দেশের কয়েকটি এলাকার নগরায়ন পরিকল্পনার কপি মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নগরায়ন পরিকল্পনায় কৃষি জমিকে বাদ দেয়া এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। মন্ত্রী অধিদপ্তরে অবস্থিত ইউএন-হ্যাবিটেট অফিসও পরিদর্শন করেন।